রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ০৬:৫২ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
Logo আনোয়ারার শিক্ষা ব্যবস্থায় ফলাফলে বিপর্যয়: কারণ খুঁজছেন অভিভাবকরা, শিক্ষাবান্ধব পরিবেশের দাবি Logo মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার প্রকল্প বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পাচঁ বৎসরে পঁচিশ কোটি বৃক্ষরোপণ। Logo বাংলাদেশে ‘টেক সিটি’ ও ‘ইনোভেশন সিটি’ গড়ে তুলতে আগ্রহী জাপান Logo বাংলাদেশে গাড়ি বানাতে চায় জাপান Logo আনোয়ারার রুদুরা বৌদ্ধ প্রগতি সংঘের উদ্যোগে শুভ প্রবারনা পূর্নিমা অনুষ্ঠিত Logo আনোয়ারায় ইয়াবা ব্যবসায়ী টাউট ইব্রাহিম গ্রেপ্তার Logo চলতি সংসদ অধিবেশনেই বাংলাদেশের সঙ্গে অংশীদারত্ব চুক্তি পাস করতে চায় জাপান, জাপান থেকে আমদানি করা গাড়ির উপর থেকে ১৫ বছরের জন্য উঠে যাচ্ছে শুল্ক Logo শিক্ষক কিংবা অন্য পেশায় কর্মরত কারও সাংবাদিকতা করার সুযোগ নেই: প্রেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান Logo রাজনৈতিক কারণে বাধ্য হয়ে ১৭ বছর বিদেশে থাকতে হয়েছিল : প্রধানমন্ত্রী Logo সচিবালয়ের ঊর্ধ্বর্তন বাছাই কমিটিতে সরওয়ার জামাল এমপি
নোটিশঃ
যে কোন বিভাগে প্রতি জেলা, থানা/উপজেলা এবং বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে ‘dainikalokitobangla.com ’ জাতীয় পত্রিকায় সাংবাদিক নিয়োগ ২০২৩ চলছে। বিগত ১ বছর ধরে ‘dainikalokitobangla.com’ অনলাইন সংস্করণ পাঠক সমাজে জনপ্রিয়তা পেয়েছে। পাঠকের সংখ্যায় প্রতিনিয়ত যোগ হচ্ছে নানা শ্রেণি-পেশার হাজারো মানুষ। বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনে প্রতিষ্ঠানটিতে কাজ করছে তরুণ, অভিজ্ঞ ও আন্তরিক সংবাদকর্মীরা। এরই ধারাবাহিকতায় ‘dainikalokitobangla.com‘ পত্রিকায় নিয়োগ প্রক্রিয়ার এ ধাপ

ফিরছে প্রাথমিকের বৃত্তি, বাড়ানো হচ্ছে অর্থ

শাহরিয়ার মাহমুদ চৌধুরী / ২৪৪ Time View
Update : রবিবার, ১৫ জুন, ২০২৫, ৭:৪৩ পূর্বাহ্ণ

বন্ধ হয়ে যাওয়ার ১৬ বছর পর আবারও বৃত্তি পরীক্ষা ফেরানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ইতোমধ্যে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা মেনে খসড়া নীতিমালা তৈরি করে তা জমা দিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। নীতিমালায় বৃত্তির অর্থের পরিমাণ বাড়ানোরও সুপারিশ করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে এক দফা বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শিগগির এ নীতিমালা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে।একসময় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণি শেষ করার পর বৃত্তি পরীক্ষার প্রচলন ছিল। এ পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের মধ্য থেকে মেধাতালিকায় জায়গা পাওয়াদের দেওয়া হতো মাসিক হারের বৃত্তির টাকা। তবে ২০০৯ সালে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা (পিইসিই) চালুর পর থেকে বন্ধ হয়ে যায় প্রচলিত এই পরীক্ষা।

 

 

এঘটনার পর শিক্ষার্থী-অভিভাবকরা তো বটেই, শিক্ষকরাও ক্ষোভ জানিয়ে আসছিলেন। সেসময় বৃত্তি পরীক্ষা বহালের দাবিতে মাঠেও নেমেছিলেন অভিভাবকরা। তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার তা আমলে নেয়নি। ফলে বৃত্তি পরীক্ষার বিষয়টি ভুলতে বসেছিলেন শিক্ষার্থী-অভিভাবকরা।প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর সূত্র জানায়, চলতি বছরের শুরুর দিকে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় বৃত্তি পরীক্ষা আগের নিয়মে ফেরানোর নির্দেশনা দিয়ে অধিদপ্তরে চিঠি দেয়। পরে অধিদপ্তর আগের নিয়মের সঙ্গে কিছু বিষয় যুগোপযোগী করে খসড়া নীতিমালা তৈরি করেছে। তা এখন চূড়ান্তভাবে প্রজ্ঞাপন জারির অপেক্ষায়।দীর্ঘদিন পর বৃত্তি পরীক্ষা ফেরানোর খবরে খুশি অভিভাবকরা। তারা বলছেন, প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা না থাকায় সন্তানদের পড়ার টেবিলে বসানোর অভ্যাস করতে পারছেন না তারা। তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত কোনো পরীক্ষা নেই। ফলে শিশু শিক্ষার্থীরা প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা সম্পর্কে কোনো ধারণা না নিয়েই বেড়ে উঠছে। বৃত্তি পরীক্ষা ফিরলে কিছুটা হলেও শিক্ষার্থীরা ধারণা পাবে।

 

তবে বৃত্তি পরীক্ষায় বৈষম্য তৈরি হয় বলে মনে করেন শিক্ষাবিদরা। তারা বলছেন, এতে বিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষার্থীকে আগে থেকে বিশেষ পরিচর্যা করা হয়। তারাই বৃত্তি পরীক্ষা দেয়। বিদ্যালয়ের ফলাফল ভালো দেখানোর জন্য শিক্ষকরা বৃত্তি পরীক্ষা দেওয়া গুটিকয়েক শিক্ষার্থীর দিকে বেশি মনোযোগ দেন।

 

তাছাড়া মফস্বলের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ধনী বা সচ্ছল পরিবারের সদস্যদের এ ধরনের পরীক্ষায় অংশ নিতে দেওয়া হয়। দরিদ্র পরিবারের সন্তানদের নিরুৎসাহিত করা হয়। সেজন্য তারা বৃত্তি পরীক্ষা বাতিলের দাবি জানিয়ে আসছেন।

 

বৃত্তি পরীক্ষা ডিসেম্বরে, অংশ নেবে কত শিক্ষার্থী চলতি বছর থেকেই বৃত্তি পরীক্ষা চালু করা হবে। পঞ্চম শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষা শেষে ডিসেম্বরের মধ্যেই এ পরীক্ষা আয়োজনে সব পদক্ষেপ নেবে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। প্রতিটি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ২০ শতাংশ শিক্ষার্থী বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারে। সেটিও কিছুটা বাড়ানোর সুপারিশ করেছে অধিদপ্তর।

 

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) আবু নূর মো. শামসুজ্জামান বলেন, ‘এ বছর থেকেই বৃত্তি পরীক্ষা হবে, এটা নিশ্চিত। শিগগির বৃত্তি পরীক্ষার নিয়ম-কানুন কী হবে, তার নীতিমালা চূড়ান্ত করে প্রকাশ করবে মন্ত্রণালয়।’

 

কত শিক্ষার্থী বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আগের নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ হারে শিক্ষার্থীদের বৃত্তি পরীক্ষা দিতে দেওয়া হতো। এটা এখন বাড়ানো প্রয়োজন বলে আমরা মনে করছি। সেজন্য এটা ২০ থেকে বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে।’

 

বাড়ছে ট্যালেন্টপুল-সাধারণ বৃত্তির টাকার পরিমাণ প্রাথমিকের বৃত্তি পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের দুই ধরনের বৃত্তি দেওয়া হয়। একটি হলো—ট্যালেন্টপুল, আরেকটি সাধারণ বৃত্তি। ২০০৯ সালে সবশেষ চালু থাকা সময়ে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পাওয়া একজন শিক্ষার্থী মাসিক ৩০০ টাকা হারে বৃত্তির অর্থ পেতো। আর সাধারণ বৃত্তিপ্রাপ্তরা পেতো ২২৫ টাকা।

 

বৃত্তি নীতিমালা যুগোপযোগী করায় এবার টাকার পরিমাণও বাড়ানো হচ্ছে। বর্তমান বাজারমূল্য ও শিক্ষা উপকরণের দাম বিবেচনায় দুই ধরনের বৃত্তির অর্থ দ্বিগুণ করার সুপারিশ করেছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর।

 

অধিদপ্তরের বৃত্তি শাখার তথ্যমতে, খসড়া নীতিমালায় ট্যালেন্টপুলে বৃত্তির পরিমাণ ৩০০ থেকে বাড়িয়ে ৬০০ টাকা এবং সাধারণ বৃত্তিপ্রাপ্তদের ২২৫ থেকে বাড়িয়ে ৪৫০ টাকা করার সুপারিশ করেছে অধিদপ্তর।

 

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের উপবৃত্তি বিভাগের উপ-পরিচালক রাশেদা বেগম বলেন, ‘আমরা সুপারিশ করতে পারি। সেটা করেছি। বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনা করবে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। আশা করছি, শিক্ষার্থীদের বর্তমান খরচের হিসাব বিবেচনায় নিয়ে বৃত্তির টাকা বাড়ানো হবে।’

 

বৃত্তি পাবে ১ লাখ শিক্ষার্থী, বাড়ছে ১৮ হাজার ২০০৮ সালের ডিসেম্বরে সবশেষ আগের নিয়মে বৃত্তি পরীক্ষা হয়। সেসময় সারাদেশ থেকে ট্যালেন্টপুল ও সাধারণ ক্যাটাগরিতে প্রায় সাড়ে ৮২ হাজার শিক্ষার্থীকে বৃত্তি দেওয়া হয়। তার মধ্যে ৩৩ হাজার শিক্ষার্থী ট্যালেন্টপুল ও ৪৯ হাজার ৩৮৩ জন সাধারণ বৃত্তি পেয়েছিল।

 

উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডভিত্তিক কোটা পদ্ধতিতে এ বৃত্তি দেওয়া হয়। গত ১৬ বছরে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী বেড়েছে কয়েকগুণ। ফলে এবার আরও বেশি শিক্ষার্থীকে বৃত্তি দিতে চায় অধিদপ্তর।

 

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) আবু নূর মো. শামসুজ্জামান বলেন, ‘বর্তমানে দেশে প্রায় এক কোটি শিক্ষার্থী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ালেখা করছে। সেই হিসাবে ১ শতাংশ শিক্ষার্থীকে বৃত্তি দিলেও তা ১ লাখ হওয়া উচিত। সেজন্য আমরা আরও বেশি শিক্ষার্থীকে বৃত্তি দিতে সুপারিশ করেছি। সবশেষ সাড়ে ৮২ হাজার শিক্ষার্থী বৃত্তি পেয়েছিল। আগামীতে সেটি ১ লাখ বা তারও বেশি হতে পারে।’


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
Design & Developed by : BD IT HOST