গতকাল চট্টগ্রাম নগরের ২ নম্বর গেট এলাকায় সড়ক অবরোধ করেছিলেন চট্টগ্রাম পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীরা একই এলাকায় চট্টগ্রাম–কক্সবাজার রেললাইনে ওপর অবস্থান নিয়েছেন শিক্ষার্থীদের একটি অংশ। গতকাল বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তাঁরা এই কর্মসূচি শুরু করেন। বেলা দেড়টার দিকে এই প্রতিবেদন লেখার সময় পর্যন্ত সড়ক ও রেললাইনে অবস্থান করতে দেখা যায় তিন শতাধিক শিক্ষার্থীকে।
পূর্বঘোষিত ছয় দফা দাবি বাস্তবায়ন না হওয়ায় সারা দেশে ‘বাংলা ব্লকেড’ কর্মসূচি চলছে কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের। এর আওতায় চট্টগ্রামে শিক্ষার্থীরা সড়ক ও রেলপথ অবরোধ করেছেন। কর্মসূচিতে চট্টগ্রাম পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বেসরকারি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরাও যোগ দিয়েছেন।
বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা জানান, আধুনিক ল্যাব স্থাপন ও জুনিয়র ইনস্ট্রাক্টর পদে পদোন্নতিতে বৈষম্য নিরসনসহ ছয় দফা দাবিতে গত মার্চে আন্দোলন করেন শিক্ষার্থীরা। সে সময় চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধান উপদেষ্টা বরাবর স্মারকলিপি দেওয়া হয়। তবে দাবি বাস্তবায়নে কোনো অগ্রগতি হয়নি। তাই আবারও সড়কে নেমেছেন তাঁরা।
গতকাল (১৬ এপ্রিল) বেলা ১১টায় চট্টগ্রাম পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ভেতর ক্লাস–পরীক্ষা বর্জন করে আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। পরে তাঁরা ২ নম্বর গেট এলাকায় এসে অবস্থান নেন। এতে সিডিএ অ্যাভিনিউ সড়ক বন্ধ হয়ে যায়। এ সময় বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা ডিপ্লোমা কোর্সের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নানা বৈষম্যের কথা তুলে ধরে এর বিপক্ষে স্লোগান দিতে থাকেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, সিডিএ অ্যাভিনিউ সড়কের ২ নম্বর গেট মোড়ে বসে সড়ক অবরোধ করেছেন শিক্ষার্থীরা। সড়কে বাঁশ ফেলে ও দড়ি টাঙিয়ে যান চলাচলে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের একটি অংশ অদূরে চট্টগ্রাম–কক্সবাজার রেললাইনে ওপর অবস্থান নিয়েছেন। তাঁরা দাবি আদায়ে স্লোগান দিচ্ছেন। সেখানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত আছেন।
চট্টগ্রাম পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের পুরকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী আসিফ আহামদ বলেন, ‘গত মাসে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছিলাম। কিন্তু কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তাই আমরা আমাদের দাবি আদায়ে সড়কে নেমেছি।’
শিক্ষার্থীদের ছয় দফা দাবির মধ্যে প্রথম দাবি, জুনিয়র ইনস্ট্রাক্টর পদে ক্রাফট ইনস্ট্রাক্টরদের পদোন্নতির রায় বাতিল করা, ক্রাফট ইনস্ট্রাক্টরদের পদবি পরিবর্তন, মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের চাকরিচ্যুত করা এবং ২০২১ সালে নিয়োগপ্রাপ্ত ক্রাফট ইনস্ট্রাক্টরদের নিয়োগ সম্পূর্ণভাবে বাতিল ও বিতর্কিত নিয়োগবিধি সংশোধন করা। দ্বিতীয় দাবি, ডিপ্লোমা ইন–ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্সে যেকোনো বয়সে ভর্তির সুযোগ বাতিলের পাশাপাশি চার বছর মেয়াদি মানসম্পন্ন কারিকুলাম চালু করা এবং একাডেমিক কার্যক্রম পর্যায়ক্রমে ইংরেজি মাধ্যমে করা।
আমাদের দাবি মানতে হবে। অন্যাথায় কঠোর থেকে কঠোরতর হবো। আমরা রাজপথে জীবন কিভাবে নিজের অধিকার বুঝে নিতে হয় সেটা শিখে গেছি। আমাদেরকে কেউ দাবায়া রাখতে পারবা না।
মামার বাড়ির আবদার
ক্রাফট মামারা হতে চায় জুনিয়র ইন্সক্ট্রাকটর 🤡