চট্টগ্রামের আনোয়ারা সরকারি কলেজ, শাহ মোহছেন আউলিয়া ডিগ্রি কলেজ এবং কর্ণফুলী আব্দুল জলিল ডিগ্রি কলেজে সদ্য প্রকাশিত এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে চরম হতাশা ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষার্থীদের আশানুরূপ ফল না হওয়া এবং ফলাফল বিপর্যয়ের এই ঘটনায় স্থানীয় অভিভাবক ও বিশিষ্টজনদের মনে ক্ষোভ জমা হচ্ছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, এই ফলাফল বিপর্যয়ের পেছনে শিক্ষার্থীদের পড়ালেখায় অমনোযোগিতার পাশাপাশি একাধিক প্রশাসনিক ও পারিপার্শ্বিক কারণ দায়ী। স্থানীয়দের অভিযোগ—শিক্ষকদের পাঠদানে অনিয়ম, শ্রেণিকক্ষে নিয়মিত পাঠদান না হওয়া, শিক্ষার্থীদের ব্যাপক অনুপস্থিতি, প্রতিষ্ঠানের দুর্বল তদারকি এবং পর্যাপ্ত জবাবদিহির অভাবেই পড়ালেখার এই নিম্নগতি।
এর পাশাপাশি শিক্ষার পরিবেশ নিয়ে উঠে এসেছে আরেকটি আশঙ্কাজনক তথ্য। অভিযোগ রয়েছে, কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানে শ্রেণিকক্ষে স্বাভাবিক পাঠদানের চেয়ে রাজনৈতিক মিছিল, মিটিং ও বিভিন্ন সাংগঠনিক কর্মসূচি বেশি প্রাধান্য পাচ্ছে। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মূল সময় ও মনোযোগ যদি শিক্ষার পরিবর্তে এসব রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে ব্যয় হয়, তবে শিক্ষার মান ধরে রাখা অসম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
শিক্ষা সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, শুধু ফলাফলের পরিসংখ্যান প্রকাশ করেই দায়িত্ব শেষ করা যাবে না। শিক্ষার মান ফেরাতে হলে অবিলম্বে নিয়মিত ক্লাস নিশ্চিত করা, শিক্ষকদের জবাবদিহির আওতায় আনা, দুর্বল শিক্ষার্থীদের বাড়তি পরিচর্যা করা এবং সর্বোপরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখা অত্যন্ত জরুরি।
এ বিষয়ে অভিভাবকরা জানান, “কলেজ রাজনীতি চর্চার ক্ষেত্র হতে পারে, কিন্তু তা কখনোই শিক্ষার বিকল্প হতে পারে না। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনো ধরণের অবহেলা সহ্য করা হবে না।” শিক্ষা খাতে এখনই কার্যকর ও দৃশ্যমান পরিবর্তন এনে পড়াশোনার উপযোগী পরিবেশ নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।