আনোয়ারা উপজেলায় দূরত্বগত কারণে নাগরিক সেবা পেতে ভোগান্তি পোহাচ্ছে ডুমুরিয়া-রূদুরা দুই গ্রামের মানুষ। পাশেই উপজেলা সদর ও সদর ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় হলেও এই দু’টি গ্রাম প্রশাসনিক কার্যক্রমে ৪ কিলোমিটার দূরে চাতরী ইউনিয়নের সাথে যুক্ত। ক্ষুব্দ এলাকাবাসী প্রশাসনিক এই বিভাজন ভেঙ্গে দুই গ্রামকে আনোয়ারা সদর ইউনিয়নের সাথে যুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন।
আনোয়ারা উপজেলা সদরের পাশেই ডুমুরিয়া-রূদুরা গ্রাম। এর পাশেই সদর ইউনিয়ন কার্যালয়। দু’টি গ্রামে প্রায় ৮ হাজারেরও বেশি মানুষের বসবাস। ইউপি চেয়ারম্যান সংশ্লিষ্ট নাগরিক সেবা গ্রহনে প্রায় ৭ কিলোমিটার দূরে ইউপি কার্যালয়ে যাতায়াত করতে হয়। এই গ্রাম দুইটি আনোয়ারা সদর ইউনিয়নের সাথে যুক্ত করা হলে সাধারণ মানুষ ভোগান্তি থেকে মুক্তি পাবে বলে জানিয়েছে এই দুই এলাকার মানুষ।স্থানীয়রা আরও জানান, তাদের ইউনিয়ন সম্পর্কিত কোনো কাজে ইউপি কার্যালয়ে সকাল দশটায় গেলে সেই কাজ শেষ হতে হতে দুপুর বা অনেক সময় বিকেল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়। ফলে যারা চাকরিজীবী রয়েছেন তাদের চাকরির উপরও একটা খারাপ প্রভাব পড়ে,। স্থানীয়দের এই সমস্যা সমাধানের জন্য অর্থাৎ ডুমুরিয়া, রূদুরা দু’টি গ্রামকে চাতরী ইউনিয়নের পরিবর্তে কাছের আনোয়ারা সদর ইউনিয়নের সাথে যুক্ত করার দাবিতে উঠোন বৈঠক, পাড়ায় পাড়ায় জনমত গঠন, সমাবেশসহ নানা কর্মসূচি পালন করছে স্থানীয়রা। এসব কর্মসুচিতে দলমত নির্বিশেষে হাজারো মানুষ অংশ নিচ্ছে। আগামীকাল রবিবার উপজেলা চত্বরে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে মানববন্ধন ও প্রশাসনের কাছে স্মারকলিপি প্রদানের কর্মসূচি দেয়া হয়েছে।
সাবেক ইউপি সদস্য নজির হোসেন ৫০ বছরেরও অধিক সময় ধরে সামাজিক কর্মকান্ডে জড়িত। তিনি বলেন, স্বাধীনতার আগে এক সময় ডুমুরিয়া-রূদুরা গ্রাম ছিল আনোয়ারা সদর ইউনিয়নের অংশ। এই দুই গ্রামের মানুষকে সদর ইউনিয়ন হয়ে যাতায়াত করতে হয়। অজানা কারণে স্বাধীনতার পর এলাকা বিভাজনের সময় এই দুই গ্রামকে অন্তর্ভুক্ত করা হয় ৭ কিলোমিটার দূরের চাতরী ইউনিয়নের সাথে। অথচ ডুমুরিয়া রুদুরা থেকে চাতরী যাওয়ার অভ্যন্তরীণ সড়কটিই এখন যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় আছে। এত দূরে হয়ে ডুমুরিয়া রূদুরা গ্রামকে চাতরী ইউনিয়নে নেয়া কোন যুক্তিতে পড়ে না।
স্থানীয় বাসিন্দা ও ডুমুরিয়া রুদুরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক জনাবা শাহিন আকতার বলেন, বছরের পর বছর ধরে এতো দূরের ইউনিয়ন নিয়ে ভোগান্তিতে আছে সাধারণ মানুষ। এই অযৌক্তিক বিভাজনের অবসান আজ ডুমুরিয়া রুদুরা গ্রামের আপামর জনগণের প্রাণের দাবী।