বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ০১:১৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
Logo ক্যাবের নতুন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ গঠন Logo আনোয়ারা উপজেলা হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্ট- এর নতুন কার্যালয় উদ্বোধন Logo আনোয়ারায় শাওলিন কুংফু এন্ড উশু একাডেমি’র ইফতার মাহফিল সম্পন্ন Logo সূত্রাপুরে ভোট কেনার সময় জামায়াতের নায়েবে আমির আটক Logo ভোটকেন্দ্রে অনুপ্রবেশ, মিরপুরে জামায়াতের দুই পোলিং এজেন্টের জেল Logo কুমিল্লায় জামায়াত নেতার মৎস্য প্রজেক্ট থেকে ককটেল তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার Logo কুমিল্লায় লাখ টাকাসহ জামায়াত নেতা আটক Logo বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন আপসহীন রাজনীতির এক অনন্য দৃষ্টান্ত-আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী Logo BUET এর মঞ্চে DUET এর সাফল্য Logo পূরনো ভোটের মাঠে ধানের শীষ নিয়ে অভিজ্ঞ নিজামসহ ত্রিমুখী লড়াইয়ে অনভিজ্ঞ মাহমুদুল ও শাহজাহান
নোটিশঃ
যে কোন বিভাগে প্রতি জেলা, থানা/উপজেলা এবং বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে ‘dainikalokitobangla.com ’ জাতীয় পত্রিকায় সাংবাদিক নিয়োগ ২০২৩ চলছে। বিগত ১ বছর ধরে ‘dainikalokitobangla.com’ অনলাইন সংস্করণ পাঠক সমাজে জনপ্রিয়তা পেয়েছে। পাঠকের সংখ্যায় প্রতিনিয়ত যোগ হচ্ছে নানা শ্রেণি-পেশার হাজারো মানুষ। বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনে প্রতিষ্ঠানটিতে কাজ করছে তরুণ, অভিজ্ঞ ও আন্তরিক সংবাদকর্মীরা। এরই ধারাবাহিকতায় ‘dainikalokitobangla.com‘ পত্রিকায় নিয়োগ প্রক্রিয়ার এ ধাপ

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষক এবং একটি জাতির না বলা কান্না:

মোঃ আজম খান ( চট্টগ্রাম ) / ২৭৪ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ২২ মে, ২০২৫, ৯:৩৯ পূর্বাহ্ণ

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান মহান স্বাধীনতার ঘোষক এবং তিনি ছিলেন এক সুশৃঙ্খল সেনানায়ক, এক সাহসী মুক্তিযোদ্ধা, এক দূরদর্শী রাষ্ট্রপতি। যিনি যুদ্ধ করেছিলেন অস্ত্র হাতে, আর শান্তি এনেছিলেন কলম হাতে। যিনি ১৯৭১ সালে রেডিওতে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে গোটা জাতিকে জাগিয়ে তুলেছিলেন, আজ ইতিহাসের পাতায় তাঁর নামটি মুছে ফেলার চক্রান্ত চলে!
১৯৮১ সালের ২৯মে, রাষ্ট্রপতি হিসেবে নয়, জনগণের নেতা হিসেবে তিনি পা রাখলেন চট্টগ্রামের মাটিতে। তাঁর নিজের গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআই তাঁকে আগেই সতর্ক করেছিল সেখানে ষড়যন্ত্র চলছে। কিন্তু তিনি বিশ্বাস করেছিলেন নিজের ওপর, নিজের সহযোদ্ধাদের ওপর, নিজের দেশের ওপর।

তিনি প্রটোকল নেননি, কারণ তাঁর বিশ্বাস ছিল যদি একজন নেতা নিজের জনগণের মধ্যে নিরাপদ না থাকেন, তবে সে নেতৃত্বের কোনো মূল্য নেই। এই বিশ্বাসই তাঁকে নিয়ে গিয়েছিল সেই অন্ধকার রাতের দিকে, যেখানে অপেক্ষা করছিল বিশ্বাসঘাতকতা, ষড়যন্ত্র আর মৃত্যু।

জেনারেল আবুল মনজুর, যিনি ছিলেন তাঁরই নিযুক্ত, তাঁরই আস্থাভাজন, তাঁরই কাঁধে রাষ্ট্রের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল, সেই মনজুরই এক ভয়ঙ্কর চক্রে জড়িয়ে ষড়যন্ত্র করেন। যে চক্রে নেতৃত্ব দিয়েছিল এক উচ্চাকাঙ্ক্ষী নারী, যার হাতে গণতন্ত্র ফিরিয়ে দিয়েছিলেন জিয়া নিজেই। তিনি বোঝেননি, যাদের তিনি জীবন ফিরিয়ে দিয়েছিলেন, তারাই একদিন তাঁর জীবন কেড়ে নেবে।

সেই রাতেই বজ্রঝড়ের মধ্যে তিনি শেষবারের মতো ফোন করেন তাঁর স্ত্রী প্রিয়তমা বেগম খালেদা জিয়াকে, যিনি আজ “গণতন্ত্রের মা” হিসেবে পরিচিত। তিনি শুধু বলেছিলেন,
“আল্লাহ চায় তো সকালে চলে আসব।”
কিন্তু ভাগ্য তখনই হয়ত লিখে রেখেছিল তাঁর বিদায়ের প্রতিটি লাইন। সেটিই ছিল তাঁর জীবনের শেষ ফোন কল, শেষ বার্তা একজন স্বামীর, একজন বাবার, একজন রাষ্ট্রপতির।

রাত আড়াইটায় চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে হামলা হয়। রকেট লাঞ্চার, এসএমজি, গ্রেনেড, সবকিছু দিয়ে সশস্ত্র বাহিনী ঝাঁপিয়ে পড়ে। প্রেসিডেন্টের ঘুম ভাঙে বিস্ফোরণের শব্দে। একে একে তাঁর নিরাপত্তা কর্মকর্তারা প্রাণ দেন। শেষ পর্যন্ত জিয়াকে লক্ষ্য করে চালানো হয় একের পর এক গুলি। হত্যাকারী লে. কর্নেল মতিউর রহমান দু’টি ম্যাগজিন খালি করে দেয়। শরীর আর মুখ একেবারে গুলিতে ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়। একজন রাষ্ট্রপতির দেহ নয়, বাংলাদেশের আত্মাকেই যেন গুলি করে ছিন্নভিন্ন করা হয়েছিল।

তিনি রাষ্ট্রপতি ছিলেন. কিন্তু জীবনযাপন ছিল সাধারণ মানুষের মতো। রাষ্ট্রপতি জিয়া বিশ্বাস করতেন, “যদি কৃষক বাঁচে, দেশ বাঁচবে।” তাঁর জীবন ছিল পরিশ্রম, ত্যাগ আর আদর্শের প্রতিচ্ছবি।

জিয়াউর রহমান ছিলেন সময়ের চেয়ে অনেক এগিয়ে থাকা এক রাষ্ট্রনায়ক।
যখন বাংলাদেশ সদ্য স্বাধীন, ক্ষত-বিক্ষত, তখন তিনি শুধু রাজনীতি নয়, প্রযুক্তি, বিজ্ঞান ও ভবিষ্যতের দিকেও দৃষ্টি দিয়েছিলেন। তাঁর নেতৃত্বে পরিকল্পনা করা হয়েছিল যে, ভবিষ্যতে বাংলাদেশ নিজস্ব রকেট উৎক্ষেপণ করবে, মহাকাশ প্রযুক্তির দিকে এগিয়ে যাবে।

তিনি চেয়েছিলেন, বাংলাদেশ যেন শুধু কৃষি নির্ভর না থেকে, টেকনোলজি ও ইনোভেশনের পথ ধরে এক আধুনিক রাষ্ট্রে পরিণত হয়। এই লক্ষ্যেই তিনি উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার ওপর জোর দেন এবং বিজ্ঞানমনস্ক নেতৃত্ব গঠনের উদ্যোগ নেন।
তাঁর সময়েই দেশে উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর শিল্প ও আইটি ইনফ্রাস্ট্রাকচার তৈরির পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়, যার ভিত্তিতে পরবর্তীকালেও ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখা সম্ভব হয়েছে।

এই মানুষটিই আজ ইতিহাসের সবচেয়ে নির্মম ষড়যন্ত্রের শিকার। তাঁকে মাটিচাপা দেওয়া হয়েছিল অজানা এক গ্রামে, অচেনা এক কবরস্থানে। কিন্তু ইতিহাস কি ভূলা যায়?
না, জিয়াকে ভূলা যায় না।

জিয়াউর রহমান কে ছিলেন?
→ রাষ্ট্রপতি
→ মুক্তিযুদ্ধের বীর সেক্টর কমান্ডার
→ স্বাধীনতার ঘোষক
→ বীর উত্তম
→ সেনাবাহিনী প্রধান
→ বহুদলীয় গণতন্ত্রের স্থপতি
→ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদের প্রবর্তক
→ সার্ক ধারণার জন্মদাতা
→ ওআইসি সদস্যপদ অর্জনের কারিগর
→ কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতির বিপ্লবী নেতা
→ পার্বত্য শান্তির স্থপতি
→ বিশ্বদূত হয়ে চীন, সৌদি আরব ও আমেরিকার সঙ্গে কূটনৈতিক সুসম্পর্ক গড়ে তোলা নেতা

তিনি যখন বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন তখনই দেশবিরোধী শক্তির গায়ে আগুন লেগে যায়। কারণ তারা জানত, এই মানুষটি বেঁচে থাকলে বাংলাদেশ কখনো পরাধীন হবে না।

তাঁর মৃত্যু শুধু একজন মানুষকে হারানো ছিল না, একটা স্বপ্নের অপমৃত্যু, এক আদর্শের বেদনার উপাখ্যান। আজও যারা দেশকে ভালোবাসে, অন্যায়ের প্রতিবাদ করে, নেতৃত্বের সৎ রূপ খোঁজে তাদের হৃদয়ে জিয়াউর রহমান চিরজীবী, চির অম্লান।

এই জাতি হয়তো অনেক কিছু ভুলে যেতে পারে, কিন্তু এক অন্ধকার রাতে শহীদ জিয়ার সেই রক্তস্নাত আত্মবলিদান তা ইতিহাস হয়ে থাকবে এক বিশ্বাসঘাতকতার জ্বলন্ত দলিল হয়ে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
Design & Developed by : BD IT HOST